নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর এলাকায় ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্যবাহী ট্রাক থেকে গেট পাসের নামে চাঁদাবাজির এক চাঞ্চল্যকর সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য প্রকাশ পেয়েছে।
সাধারণ শ্রমিক ও অংশীজনদের তীব্র অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র প্রতিদিন প্রায় দুই শতাধিক থেকে আড়াইশত ট্রাক থেকে নিয়মতান্ত্রিক নিয়মের তোয়াক্কা না করে জোরপূর্বক প্রতি ট্রাকে ৯৫০ টাকা করে চাঁদা আদায় করছে।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই অবৈধ চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের মূল চালিকাশক্তি বা নেপথ্য নায়কদের তালিকায় রয়েছে শাহপরান, লিপু এবং কাসেমের নাম।এছাড়া আলোচনা ও গুঞ্জনে রয়েছে মিজান ও ফখরুল চেয়ারম্যানের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের নামও।
ভারতের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী অংশ থেকে কয়লা, চুনাপাথরসহ নানা ধরনের আমদানি পণ্য নিয়ে আসা ভারতীয় ট্রাকগুলো কাস্টমস্ এলাকায় প্রবেশের মুখেই এই সংঘবদ্ধ চক্রের কবলে পড়ছে। সেখানে সিন্ডিকেটের সদস্য ও কিছু ক্যাডার বাহিনীদের সরাসরি তৎপরতায় এই অনৈতিক অর্থ আদায় করা হয়। তবে এই গুরুতর অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে অভিযুক্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে রহস্যজনক এক আচরণ লক্ষ্য করা যায়।
ব্যবসায়ী রাসেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি শাহপরান নামের অন্য এক ব্যবসায়ীর নাম উল্লেখ করে আকস্মিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরবর্তীতে অভিযুক্ত শাহপরানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো ধরনের বক্তব্য প্রদানে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানান।
এ বিষয়ে স্থানীয় শ্রমিক ও সচেতন মহলের দাবি, গেট পাসের নামে চলমান এই নগ্ন চাঁদাবাজি অবিলম্বে কঠোরহস্তে দমন ও বন্ধ করা প্রয়োজন। অন্যথায় বৈদেশিক বাণিজ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ করিডোরে দেশের মান ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটবে।
এদিকে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি; তবে অভিযোগ প্রাপ্তিসাপেক্ষে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।